Wednesday, December 28, 2016

#TheWitnessfortheProsecution — আগাথা ক্রিস্টির মাস্টারপিস!




ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্লে, ছোটগপ্প, কোর্ট রুম ড্রামা বা ক্লাসিক ফিল্ম। যা-ই বলি না কেন, এন্টারটেইনমেন্ট পাড়ায় কম বেশি সবারই নামটা জানা। সিনামাটি নির্মান করেছিলেন লিজেন্ডারি বিলি ওয়াইল্ডার; যার নির্মানশৈলী দেখে সিনেমা ক্রাফটস শিখেছেন স্বয়ং সত্যজিৎ। দর্শকদেরকে সাসপেন্স বা থ্রিল কিভাবে দিতে হয় তার একটি বেঞ্চমার্ক হচ্ছে দ্যা উইটনেস ফর দ্যা প্রসিকিউশন। বিবিসি চেষ্টা করেছিলো সে বেঞ্চমার্ক ছুঁতে, আমি বলবো ''গুড ট্রাই''...

থিয়েটারে চলাকালীন সময়ে শো শেষে নাকি বলে দেয়া হতো, "The management of this theatre suggests that for the greater entertainment of your friends who have not yet seen the picture, you will not divulge, to anyone, the secret of the ending of Witness for the Prosecution."

এমনকি সিনেমার প্রচারণার সময়েও নাকি বলা হতো,
"You'll talk about it, but please don't tell the ending."

তাই আমার মন্তব্য আপাতত গুড ট্রাই'তেই সীমাবদ্ধ। 
ট্রেইলার— https://youtu.be/03CuUuMS-AY
ডাউনলোড লিংক— https://jpst.it/QXaK

#Maigret — টিভি মুভি বলবো, ফিচার লেন্থ নাকি সিরিজ!




রোয়ান অ্যাটকিনসন, নামটিই যথেষ্ট আগ্রহ তৈরী করবার জন্য। মিস্টার বিন হোক বা ব্ল্যাকঅ্যাডার, হি ইজ মোর লাইক আ হ্যামার হু নেইলস এভ্রিথিং। তো আমাদের এই জনি ইংলিশ ৫ বছরের নীরবতা ভেঙ্গে ফিরেছেন বেশ সিরিয়াস চরিত্রে।

চরিত্রটির নাম জুলস্ মেইগ্রে। কে এই মেইগ্রে?
মেইগ্রে একজন ফ্রেঞ্চ পুলিশ ডিটেক্টিভ। যে চরিত্রকে কেন্দ্র করে লেখা হয়েছে ৭৬টি উপন্যাস এবং ২৮টি ছোটগপ্প। লিখেছেন ফ্রেঞ্চ উপন্যাসিক জর্জ সিমেনেন। যার লেখা উপন্যাসের সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক। ছোট পর্দায় মেইগ্রেকে নিয়ে এক্সপেরিমেন্টের নতুন সংস্করণ এটি।

ক্রাইম ড্রামা জনরার এই ব্রিটিশ ফিচার লেন্থের প্রচার শুরু হয় আইটিভি নেটওয়ার্কে। প্রথমে টিভি মুভি হিসেবে প্রচারিত হলেও, দর্শকপ্রিয়তা পাবার পর চ্যানেলটি সিদ্ধান্ত নেয় ফিচার লেন্থ হিসেবে প্রচার চালিয়ে যাবার।
যার প্রথম ইন্সটলমেন্ট ছিলো—
Maigret Sets a Trap (2016)
ট্রেইলার... https://youtu.be/0QLxIBkewLw
এটি প্রচার হয় ২৮শে মার্চ, ২০১৬। গপ্পের টাইমলাইন পঞ্চাশের দশকে। ফ্রান্সের মনমার্ট্রাতে ঘটতে থাকে খুনের ঘটনা। পরপর ৫ মাসে খুন হয় ৫ জন নারী। কিন্তু খুনীর কোনো ক্লু খুঁজে পাওয়া যায় না। সেই ধূর্ত সিরিয়াল কিলারকে ধরবার জন্য চিফ ইন্সপেক্টর মেইগ্রে একটি ফাঁদ পাতেন।
দ্বিতীয় ইন্সটলমেন্ট হলো—
Maigret's Dead Man (2016)
ট্রেইলার... https://youtu.be/9atTVOzAGEw
ক্রিসমাস স্পেশাল হিসেবে প্রচারিত হয় গত ২৫শে ডিসেম্বর, ২০১৬। মেইগ্রের গপ্পের টাইমলাইন মূলত পঞ্চাশের দশক। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়। এ গপ্পে পার্সিয়ান আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডার্ক টেরিটরি ডিস্কভার করেন ডিটেক্টিভ মেইগ্রে।
তৃতীয় ইন্সটলমেন্টের শ্যুটিং চলছে—
Night at the Crossroads (2017)
প্রতি ইন্সটলমেন্টের দৈর্ঘ্য দেড় ঘন্টা। চতুর্থ ইন্সটলমেন্ট পর্যন্ত রিনিউ করা হয়েছে আপাতত।

টিভি সিরিজে যে ব্রিটিশরা বস, সেটা আর নতুন করে বলবার কোনো ব্যাপার নয়। ব্রিটিশ সিরিজের টোনটাই যেনো আলাদা। চমৎকার স্টোরিটেলিং, টাচি ব্যাকরাউন্ড স্কোরের সাথে দারুণ মেইকিং। সবমিলিয়ে ভিউয়ারদের জন্য দুর্দান্ত এক্সপেরিয়েন্স। এবং মিস্টার অ্যাটকিনসন যে সিরিয়াস চরিত্রেও পারদর্শী সেটাও এ সিরিজের উল্লেখযোগ্য দিক।

If you are waiting for Sherlock then It's a perfect appetizer for you!
ডাউনলোড লিংক— https://jpst.it/QWDn

#Taboo — ফোর্থকামিং এইট এপি মিনিসিরিজ!



ট্রেইলার... https://youtu.be/W1fiijqrKuc

ভিক্টোরিয়ান এরা। এক অ্যাডভেঞ্চারার আফ্রিকা থেকে ব্রিটেনে ফেরে। সাথে চুরি করা ১৪টি ডায়মন্ড। অতঃপর, পিতৃহত্যার প্রতিশোধ। ড্রামা টার্নস্ ইন্টু ভেঞ্জেন্স।

প্রোটাগনিস্ট/কো-ক্রিয়েটর/এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসর
''এডওয়ার্ড টমাস হার্ডি''

অপর কো-ক্রিয়েটর হচ্ছেন, স্টিভেন নাইট; যিনি পিকি ব্লাইন্ডার্সের ক্রিয়েটর। আরেকজন ক্রিয়েটর তো টম হার্ডির জন্মদাতা চিপ্স হার্ডি।

পাশাপাশি এক্সিকিউটিভ প্রোডিউসর হিসেবে আছেন রিডলি স্কট।

বিবিসি, টম হার্ডি, স্টিভেন নাইট, রিডলি স্কট... সোল্ড!
(এফওয়াইআই, চ্যাপলিনের নাতনীকেও দেখা গেলো)

৭ই জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে বিবিসি ওয়ান এ ইউনাইটেড কিংডম। এবং ১০ই জানুয়ারি, ২০১৭ থেকে এফএক্স এ ইউনাইটেড স্টেইটসে এয়ার শুরু হবে। প্রতি এপি রানিং টাইম ৬০ মিনিট।

NOW, WHAT DO WE DO?
IT'S SIMPLE, WE KILL THE BATMAN!
& WAIT FOR THE TORRENT!
.

Thursday, December 8, 2016

আর্ট ফিল্মজনিত অ্যালার্জি বা FAQ


মোশন পিকচার বা চলচ্চিত্র, আমরা যারা দেখতে আগ্রহী। তাদের কাছে সিনেমা মানেই হচ্ছে ইয়া বিসমাইক টাইপ মারামারি, বাজেট বেশি থাকলে মাইর খেয়ে মুখ দিয়ে রক্ত বের হবে আর বাজেটের স্বল্পতায় বের হবে পানি। আপনার মনে প্রেম লাগছে, কিন্তু আপনার সাথে রাস্তাঘাটের অপরিচিত লোকজনও নাচবে। নাচতেই হবে। এজন্যেই তো তাদের ভাড়া করা হইছে। আমরা জানি নায়কের গুলি খাইলেও কিছু হবেনা, কারণ পিস্তলে গুলি না ভিটামিন ক্যাপসুল ছিলো। আমরা যারা সিনেমা মানেই লারেলাপ্পা মনে করি তাদের কাছে এর বাইরে সবকিছুই বোরিং। আমাদের কাছে আর্ট হচ্ছে বোরিং ব্যাপার। তথাকথিত সামাজিক ভাবনায়, বুদ্ধিমানেরা সায়েন্স নিয়ে পড়ে। একটু কম বুদ্ধিমানেরা কমার্স নিয়ে, আর যাদের বুদ্ধি নাই তাদের আর্টসে পাঠায় দেয়া হয়। লজিকাল হইলেও মজা পাইনা তাই আর্ট ইলজিকাল লাগে আরকি। এই হচ্ছে সিচুয়েশন। সাবজেক্ট হোক বা ফিল্ম, আর্ট হচ্ছে প্যাচাইল্লা জিনিস। এই অ্যালার্জির জন্যে মূলত আমরা নিজেই দায়ী। প্রশ্ন করতে আসতে পারে, কেন? উত্তর সহজ, আর্ট নিয়ে আমরা বেশ ভয়াবহভাবে কনফিউজড্ এবং সেটার সংক্রমন দিনে দিনে বাড়তেই থাকবে যতদিন পর্যন্ত না আমাদের ধারণা স্পষ্ট হবে। কিছু Frequently Asked Questions এর জবাব দিয়ে আর্ট ফিল্মজনিত অ্যালার্জির প্রতিশেধক দেবার চেষ্টা করছি স্টেপ বাই স্টেপ—
  • "আর্ট ফিল্ম" জিনিসটা আসলে কি? কপিবুক ষ্টাইলে বলতে গেলে, An art film is "intended to be a serious artistic work, often experimental and not designed for mass appeal"; they are "made primarily for aesthetic reasons rather than commercial profit" and they contain "unconventional or highly symbolic content."
নিজ ভাষায় বলতে গেলে— মূলধারার এবং বানিজ্যিক প্রবাহের বাইরে গিয়ে শিল্পচাতুর্যপূর্ণ, পরীক্ষামূলক এবং সনাতন নিয়মবিরুদ্ধভাবে যে চলচ্চিত্র নির্মান করা হয় তাকেই "আর্ট ফিল্ম" বলে।
  • এটাকে আর্ট ফিল্ম বলার যৌক্তিকতা কি? আর্ট ফিল্ম এর সংজ্ঞা থেকেই কিন্তু নামকরনের যৌক্তিকতা প্রমানিত হয়। শিল্প যেখানে মুখ্য, ব্যবসা যেখানে গৌণ; লৌকিকতাবর্জন এবং মুক্তাচরণ এর কারনেই কিন্তু ইহা "আর্ট ফিল্ম" নয়তো কমার্শিয়াল ফিল্ম হয়ে যেতো।
  • সিনেমা আর আর্ট ফিল্মের মধ্যে পার্থক্যটা কিসের? পার্থক্যটা মূলত শৈল্পিক! নির্মাতার সম্পূর্ন শৈল্পিক স্বাধীনতা থাকে আর্ট ফিল্মে। মেইনষ্ট্রিম মুভিতে কিন্তু নির্মাতা কিছু তথাকথিত ব্যাকরণ এবং ব্যবসাসফলতার একটি নির্দিষ্ট ছকে বন্দী। পার্থক্য এখানেই।
কলকাতার মুভি দেখা শুরু করলেই এক একজন লাফ দিয়ে বলে ওঠে আর্টফিল্ম! কিন্তু প্রশ্ন হলো, তাঁরা আসলে সব মুভিতে একই জিনিস দেখিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। এইগুলোই কি আর্ট?
চমৎকার টেমপ্লেট! আসলেই এগুলোই কি আর্ট? আচ্ছা, তার আগে জানতে হবে আর্ট বলতে আমরা কি বুঝি? আর্ট মানে শিল্প, এইটুক তো সবাই কম বেশি জানি। কিন্তু এই শিল্প জিনিসটাই বা কী? একদম সহজভাবে বলতে গেলে শিল্প হচ্ছে ইন্দ্রিয় আধৃত অভিব্যক্তি। অর্থাৎ, ধারণ করা অনুভূতি। হতে পারে যেকোনো কিছুর। লেখা, আঁকা, বলা, দেখা, পড়া। তবে থাকতে হবে অনুভূতির মিশ্রণ এবং সে মিশ্রণে নিজেকে বা নতুন কিছু খুঁজে পাবার তাগিদ। হতে পারে গভীর তবে মনোযোগ দিলে হয়ে যাবে সহজ এবং সুন্দর। আমরা যা ই বুঝি না কেন, আর্ট কিন্তু কোনো জেলখানায় বন্দী নেই। স্থান, কাল, পাত্রভেদে আর্টে ব্যাপকভাবে বৈচিত্রতা লক্ষ্য করা যায়। এখানে উল্লেখ্য, ফ্যাশন এবং আর্ট কিন্তু একই ব্যাপার নয়। জোক্স আপার্ট, একই জিনিস কোনো এক জায়গায় আর্ট; আবার অন্য কোনো জায়গায় ফার্ট হিসেবে বিবেচিত হয়। সিরিয়াসলি। পৃথিবীর কোনো অঞ্চলে (নাম মনে পড়ছে না, প্লিজ গুগল ইট) প্রকাশ্যে ফার্ট মানে পাঁদ দেয়াকে ভদ্রতার অংশবিশেষ হিসেবে ধরা হয় আর হাঁচি দেয়াকে চরম অভদ্রতা হিসেবে ধরা হয়। আমাদের অঞ্চলে কিন্তু এর উল্টোটা ধরা হয়। যদিও ব্যাপারটা আর্টের পাল্লায় পড়ে না, কিছু নিছক রীতিনীতি মাত্র। ভৌগলিক অবস্থান এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্য/প্রথা আর্ট এর উপর ব্যাপকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। যেহেতু প্রশ্নটা কলকাতাভিত্তিক সেহেতু বুঝতে হবে কলকাতা আর বাকী দুনিয়ার মধ্যে অবশ্যই কিছু শৈল্পিক পার্থক্য বিদ্যমান। কলকাতা যেহেতু ভারতের অন্তর্গত সেহেতু ভারতের প্রাগঐতিহাসিক আর্ট সম্পর্কে জানতে হবে। কামসূত্রের নাম শুনেছি নিশ্চয়ই? আমাদের কাছে পর্নোগ্রাফিক কন্টেন্ট হলেও, এটা কিন্তু ভারতের ঐতিহ্য। কালচারাল এবং আর্টিষ্টিক অ্যাসেট। পতিতালয় সম্পর্কে আইডিয়া আছে নিশ্চয়ই? পতিতাবৃত্তি কিন্তু পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন পেশা। পৃথিবীর সর্বাধিক পতিতালয় কিন্তু ঐ ভারতেই অবস্থিত। আবার গুগলের জরিপ অনুযায়ী, গুগলের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট সার্চের দিক দিয়ে ঐ ভারতের অবস্থান কিন্তু দ্বিতীয়। ভারতীয় প্রাচীন মূর্তিগুলো খেয়াল করেছি কখনো? শৈল্পিকভাবে মূর্তিগুলোতে ন্যুডিটির প্রভাব প্রকট, যেটা গ্রীক বা ইউরোপিয়ানদের ক্ষেত্রেও খাটে। এখন কালচারটা যেমন আর্ট ফিল্মও তেমন হবে। আর্ট ফিল্মে দেখানো ছেলে মেয়েদের অবাধ মেলামেশা তো এখন বিশ্বজনীন নৈমেত্তিক ব্যাপার। আমি কিন্তু কোনো দেশ বা অঞ্চলের নিন্দা করছি না বরং বিবরণ দিচ্ছি। এমন বৈচিত্রময় পৃথিবীতে, সব আর্টই কি সরলীকরণ করা যায়? তাহলে আমরা তালগাছের নিচে বসে আম খাওয়ার আশা করছি কোন যুক্তিতে?
প্রাসঙ্গিকভাবেই, বলতে হয় অনেককেই দেখি কলকাতার আর্টফিল্ম দেখে নাক সিটকান। কলকাতার উদারপন্থি আর্ট ফিল্ম দেখতে বসে যদি ইরানী রক্ষনশীল কন্টেন্ট এক্সপেক্ট করেন তবে ওদের দোষ দিয়ে কি লাভ? আসল ভন্ড তো আমরা! ঘরে-বাইরে যা হচ্ছে সেটাই তারা আর্ট ফিল্মে দেখাচ্ছে। অন্তত ওরা ওদের বাস্তবতা/কালচার আর্ট ফিল্মের মাধ্যমে সেল্যুলয়েডে তুলে ধরছে। আমি বরং ওদের সৎসাহসের প্রশংসাই করবো। আর আমরা কি করছি? সারা দেশ যেখানে মৌলবাদে ছেয়ে গেছে সেখানে তারেক মাসুদের মত জিনিয়াস নির্মাতার মাটির ময়না নিষিদ্ধ হয়! কেন? কারণ মৌলবাদের ভয়ঙ্কর প্রভাব দেখানো হয়েছে তাই। ওদের তো সৎসাহস আছে, আমরাই তো কাপুরুষ! এখন উত্তর চাই, কাপুরুষতাই কি আমাদের আর্ট?
কপি করেও আর্ট ফিল্মের নামে চালিয়ে দেয়া হয়, তাহলে আর মেইনস্ট্রিমের সাথে পার্থক্য রইলো কই?
এটা কপিবাজদের গুরুচন্ডালী দোষ। এদের নির্দিষ্ট কোনো গোত্র নাই। এখন যদি বলি রবীন্দ্রনাথ তার বেশ কয়েকটা সঙ্গীতের সুর বিভিন্ন আইরিশ/স্কটিশ ফোক সং থেকে হুবুহু লাইন টু লাইন কপি করেছে, তাহলে হয়তো গাঁজার দাম কতো প্রশ্ন আসতে পারে। অনেকে কপিকে বৈধ করতে 'Inspiration' শব্দটা ব্যবহার করে থাকেন। এই অবাধ ইন্টারনেটের যুগে, তথ্য কি আর আটকে রাখা যায়? হালের 'Sherlock' টিভি সিরিজটা মনোযোগ দিয়ে দেখলেও তো প্রমান পেয়ে যাবার কথা। আরেকটা কথা, আর্ট ফিল্মে যতনা কপি হচ্ছে তার চেয়ে কয়েক হাজার কোটি গুনে কপি হয় মেইনষ্ট্রিম ফিল্মে। তা মেইনষ্ট্রিমের গুরুচন্ডালী দোষ আর্ট ফিল্মের উপর চাপাচ্ছি কেন?
এই আর্ট ফিল্মজনিত অ্যালার্জি নিয়ে নিজস্ব মূল্যায়ন

বছর খানেক আগের কথা যখন IELTS এর কোচিং করি। একদিন কোর্স টিচার জিজ্ঞেস করলো, আচ্ছা বলো তো ইংরেজী শেখার সহজ উপায় কি? বললাম, মুভি দেখা। স্যার হেসে বললো, তোমার ধারণা ভুল। কেউ যদি বাংলা শিখতে চায় তারে কি বলবা বাংলা মুভি দেখতে? এরপরে ডিপজল বলবে খাইসি তোরে! সান্ডে মান্ডে ক্লোজ! পুত কইরা দিমু! ঠিক একইভাবে কেই যদি মুভি দেখে ইংরেজী শিখতে চায় তবে বিভিন্ন উদ্ভট ডায়লগ আর ভিন্ন অ্যাকসেন্টের প্রোনান্সিয়েশনে ভুলভাল ইংরেজীই শেখা লাগবে। গ্রামারের গ্রামে আগুন! পয়েন্ট টুবি নোটেড হেয়ার মাই ডিয়ার, আমরা আর্ট ফিল্ম এর কনসেপ্ট সম্পর্কে জেনেছি কোলকাতা থেকে। পাশাপাশি ইরানী/বিভিন্ন ফরেন আর্ট ফিল্ম দেখে টেষ্ট ফ্ল্যাকচুয়েশনে/অ্যালার্জিতে ভুগেছি। অথচ যদি জাপানী চলচ্চিত্র পরিচালক আকিরা কুরোসাওয়া এর আর্ট ফিল্মগুলা দেখে আর্টফিল্ম এর কনসেপ্টে সম্পর্কে জানতাম তবে এতো অ্যালার্জিতে ভুগতে হতো না। আমরা বড় হয়েছি নায়িকার বক্ষ ঝুলানো দেখে। যদি ইয়োজিম্বো, সেভেন সামুরাই, রাশোম্যন, ড্রাঙ্কেন অ্যাঞ্জেল, কাজুমাসা দেখতাম তাহলেই বুঝতাম আর্ট ফিল্ম কি জিনিস! আকিরা কুরোসাওয়া নামক সাইক্লোনে- আর্ট ফিল্ম কিভাবে মেইনষ্ট্রিম মুভিকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো শিখেছে সেটাও এক্সপেরিয়েন্স করতে পারতাম। পরবর্তীতে আরেজনের কথা না বললেই নয়, গুরু ষ্ট্যানলি ক্যুবরিক- উনার সম্পর্কে কিছু না বলে উনার যেকোনো একটা মুভি দেখলেই হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যায় আর্ট ফিল্ম দেখার জন্য যে হিউমার, নলেজ, ইমাজিনেশন এবং ধৈর্য দরকার। আরেক গুরু ঋত্বিক ঘটকের মতো ভাবনা প্র্যাক্টিস করবার তাগিদ আসে। রটেনে ক্যুবরিক এর তুলনামূলক কম ফ্রেশনেস পাওয়া সিনেমা হলো 'Eyes Wide Shut'। এই মুভিটাতে একটা বেডরুমের গল্পকে এমন সাহসিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে দেখেই অনেকে বলে বসতে পারে, ধুর বাল এডি কী!
যদিও এখন নিজেকে বাঁচাল/জ্ঞানপাপী টাইপ কিছু মনে হচ্ছে এবং প্রচন্ড বিব্রতবোধ করছি তবুও যেহেতু ডিসকাশন শুরু করেছি তাই যাষ্ট আরও কিছু পয়েন্ট অ্যাড করতে চাই। তার আগে বলে নিই যে, আমি ঢালাওভাবে বলছি না যে আর্ট মানেই ন্যুডিটি; তবে যেকোনো অঞ্চলের শিল্পেই যৌনতার প্রভাব বিদ্যমান। আর্ট ফিল্ম দেখতে হলে এই ফ্যাক্টটা মেনে নিতেই হবে। এখন যা বলবো এগুলো আর্ট ফিল্মের একদম বেসিক ইনফো, আমার শুরুতেই বলা উচিত ছিলো। তাহলে নোটের প্রথম দিককার ভাবনাগুলো আরও সহজবোধ্য হতো-
উনিশ শতকের শুরুর দিকে আর্ট ফিল্ম মেকিং শুরু হলেও মূলত ফর্টিজ এর দিকে এসে আর্ট ফিল্ম বেশ পোক্তভাবে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। একে একে মুক্তি পায় সিটিজেন কেইন, বাইসাইকেল থিফ, লা ষ্ট্রার্ডা এর টাইমলেস ক্ল্যাসিক কিছু মুভি। একটু খেয়াল করলেই দেখা যায় অধিকাংশ ক্ল্যাসিক সিনেমাই কিন্তু আর্ট ফিল্ম। ততদিনে কিন্তু চার্লস চ্যাপলিনও আর্ট ফিল্মের জন্য একটি দুর্দান্ত বেইজ তৈরী করে দিয়েছেন। আজকের সিনেমা জগত যদি এতো দূর পর্যন্ত এসে পৌছায় তবে তার জন্য চ্যাপলিন সাহেবের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবেই! এদিকে সে সময় ইতালিয়ান এবং ফ্রেঞ্চ আর্ট ফিল্মমেকাররা ইউরোপিয়ান সিনেমায় আর্ট ফিল্ম নামক একটি নিউ ওয়েভ চালু করেন। যার সর্বাধিক সুফল লাভ করে ফ্রেঞ্চ আর্ট ফিল্মগুলো। সেই আর্ট ফিল্মের ওয়েভ শুধুমাত্র ইউরোপেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ছড়িয়েছে এশিয়াতেও। জাপানের আকিরা কুরোসাওয়া আর এ উপমহাদেশের সত্যজিৎ রায় এশিয়ার সিনেমায় এনেছেন আর্ট ফিল্মের নিউ ওয়েভ!
এখন খুউব লজিকাল একটা প্রশ্ন করে আমাকে আটকে দেয়া যায় সহজেই- আচ্ছা, তাদের কালচারে যদি ন্যুডিটির/যৌনতার প্রভাব এতটাই প্রকট হয় তবে সত্যজিৎ রায় কিভাবে এত সুশীলভাবে অপু ট্রিলোজি নিমার্ন করলেন? অপু ট্রিলোজিও আর্ট ফিল্ম আবার গান্ডুর মত মুভিকেও আর্ট ফিল্ম বলা হয়! কেন? এই কেন এর উত্তর, আমেরিকানরাই দিয়ে দিয়েছে সেই ৬০/৭০ দশকে! সে সময় হলিউডের দেশ আমেরিকায় আর্ট ফিল্ম নিবাস গড়ে। তার আগ পর্যন্ত আর্ট ফিল্মগুলোর উপজিব্য ছিলো জীবনমুখী সুশীল প্লট। এরপর থেকেই মূলত আর্ট ফিল্ম মেকিংয়ে যৌনতাপূর্ণ কন্টেন্ট প্রবেশ করে। প্রথমদিকে এ ধরনের আর্ট ফিল্মগুলোকে বি গ্রেডেড মুভি বলা হলেও পরের দিকে ক্ল্যাসিক মুভি হিসেবে গন্য করা হয়। আর তখন থেকেই যৌনতাপূর্ণ কনটেন্ট দিয়ে আর্ট ফিল্ম মেকিং একটা ট্রেন্ডে রূপান্তরিত হয়। এর অবশ্যই একটা ব্যাখ্যা আছে। ধরি, ১৯৪০ সালে কোনো মুভির গল্পের প্রয়োজনে যৌনতাপূর্ণ দৃশ্য দেখাতে হতো তবে সেক্ষেত্রে নির্মাতারা কৌশলে এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু ঐ একই প্রয়োজনে ১৯৭০ সালের নির্মাতারা একদম বোল্ড সিক্যুয়েন্স শ্যুট করতে পিছপা হননি। আর এখন তো ২০১৬ চলছে!
আরেকটা উদাহরন দেই, ধরি 'পম্পেই' নগরীর জীবনযাত্রা নিয়ে আমি একটা আর্ট ফিল্ম বানাবো। তো আর্ট ফিল্ম যদি আমি ১৯৪০ সালে বানাতাম তবে অনেক সেন্সর করে বানানো লাগতো। যেহেতু ২০১৬ তে বানাচ্ছি সেহেতু ট্রেন্ড এবং ফ্রিডম দুইটাই আমার অনুকূলে। স্বাভাবিকভাবেই আমার আর্ট ফিল্মে ন্যুডিটি, সেক্স, ভায়োলেন্স, ইনসেষ্ট, সমকামীতার মত ব্যাপারগুলো খুউব স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। কারন যদি রোমের ইতিহাস জেনে থাকি তবে এটাও জানার কথা যে ঐসব ব্যাপারগুলোর কারনেই মূলত 'পম্পেই' নগরী বিলুপ্ত হয়েছিলো। এবার ফিরছি 'গান্ডু' প্রসঙ্গে, এই ফিল্মটাকে অনেকেই পর্নমুভি বলে গালি দেয়। আমি বরং মুভিটার প্রশংসা করি! কেন? বয়সন্ধিকালের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দে উন্মত্ত এক কিশোরের গল্প গান্ডু। বয়সন্ধিকালে একটা কিশোর যেসব 'আকাম-কুকাম' করে বেড়ায় এবং তার পারিপারর্শ্বিক জগতের একটি বোল্ড প্রতিকৃতি হলো গান্ডু। এইরকম সেনসিটিভ ব্যাপারগুলোকে সেল্যুলয়েডের ফিতায় বাঁধতে পারা আসলেই সাহসিকতা এবং প্রশংসার দাবীদার! গান্ডু যদি পর্নমুভি হয়, তবে বলতে বাধ্য হচ্ছি যে বয়সন্ধিকালের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দে উন্মত্ত প্রত্যেকটি কিশোরের জীবনই একেকটা চটিগপ্প! গেইম অফ থ্রোন্সে ইনসেষ্ট/ন্যুডিটি/সমকামীতা/সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সে পলিটিকস দেখাইলেই এপিক আর একই জিনিস কোনো আর্ট ফিল্মে দেখাইলেই পর্নমুভি? ব্যাপারটা ডাবল ষ্ট্যান্ডার্ডের হয়ে গেলো না? যে ব্যাপারগুলো এখনো সমাজে রয়ে গেছে সেগুলোই আর্ট ফিল্মের জ্বালানী। এগুলো যতদিন থাকবে ততদিন এই ধরনের আর্ট ফিল্ম নির্মিত হবেই! ইউ একসেপ্ট ইট অর নট, বাট ইটস আ ফ্যাক্ট। ফ্যাক্টস আর মেইড অফ ট্রুথ। সুশীলতা দিয়ে ফ্যাক্টস ডিজ্যাবল করা যায়না।
ব্যক্তিগত উপলব্ধি দিয়ে আমার মতামতের ইতি টানতে চাই আপাতত। আসলে আর্ট জিনিসটাই অনুভূতির পাল্লায় মাপতে হয়, কেউ কাউকে ফিলিংসটা বুঝিয়ে দিতে পারেনা। আই ক্যান শো ইউ দ্যা ডোর, বাট ইউ হ্যাভ টু ওয়ার্ক থ্রু ইট। থাই ফুডের নাম শুনেছি/খেয়ছি নিশ্চয়ই? থাই ফুডের বেসিক ইনগ্রিডিয়েন্ট হলো চারটা। সল্ট, পিপার, সয়া স্যস আর সুগার। যতই ইম্প্রোভাইজ করা হউক না কেন ঐ চারটা ইনগ্রিডিয়েন্টের যেকোনো একটা বাদ গেলে ঐটা জীবনেও থাই ফুড হবে না। আর্ট ফিল্মটাও অনেকটা থাই ফুডের মত হয়ে গেছে আর 'Sexually Explicit Content' হয়ে গেছে সয়া স্যসের মতন। সয়া স্যসে যদি অ্যালার্জি থাকে তবে থাই ফুড না খাওয়াটাই শ্রেয়!
তো এই আজাইরা ব্যাপারটা নিয়ে এতো বকবক করলাম কেন? আমার কাছে চলচ্চিত্রকে একটা কম্বো আর্ট মনে হয়, যেখানে আর্টের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলো একত্রিত হয়। কম্বো প্যাকেজে যেমন ফ্রাইজ থাকে, কোক থাকে ঠিক তেমন। একটা চমৎকার চলচ্চিত্রে দারুণ লেখনী থাকে, চিত্র থাকে, সঙ্গীত থাকে, থাকে ভাবনার খোরাক। আরাম করে বসে বসে দেখবার আর লেখবার লোভ সামলেই কী করে বলুন?

Monday, December 5, 2016

আমি মনিব আমার পরিণতির; আমি কর্ণধার আমার আত্মার!


মাদিবা
দক্ষিণ আফ্রিকায় তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ‘মাদিবা’ নামে। থেম্বু গোত্রভুক্ত হওয়ায় এ নাম তার। উনিশ শতকে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের ত্রানসকেই অঞ্চল শাসন করতো থেম্বু গোত্রপতি মাদিবা। ‘মাদিবা’ নামে ডেকে তার প্রতি অসীম শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়, এ ভালোবাসা শুধু দক্ষিণ আফ্রিকায় সীমাবদ্ধ নয়। সেদেশের গণতন্ত্রের জনক হওয়ার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকে তাকে ডাকেন ‘তাতা’ বলে। এস্কোসা ভাষায় যার অর্থ ‘বাবা’।
জগতে কেউ কেউ জন্মায় যারা পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাসে জানার মধ্যেই নিজের বিচরণ আবদ্ধ করে রাখেন না, বরং নিজেরাই ইতিহাস সৃষ্টি করে যান। এমনই একজন নেলসন ম্যান্ডেলা। জন্মগ্রহন করেন ১৯১৮ সালের ১৮ই জুলাই। ১৯৪৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আফ্রিকানদের ন্যাশনাল পার্টি জয়লাভ করে। দলটি বর্ণবাদ ও বিভিন্ন জাতিকে আলাদা করে রাখার পক্ষপাতী ছিলো। এ প্রেক্ষাপটে তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সশস্ত্র সংগঠন উমখন্তো উই সিযওয়ের নেতা হিসেবে বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন, রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৫৫ সালের জনগনের সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এ সম্মেলনে মুক্তির যে সনদ প্রণয়ন করা হয়, সেটাই ছিলো দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের মূল ভিত্তি; যে ভাবনাটি পরবর্তীতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে যায়। ১৯৬২ সালে তাকে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী সরকার গ্রেপ্তার করে ও অন্তর্ঘাতসহ নানা অপরাধের দায়ে দুই দফায় দির্ঘায়িত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। ম্যান্ডেলা সর্বমোট ২৭ বছর কারাবাস করেন। তন্মধ্যে দীর্ঘ ১৮ বছর ছিলেন রবেন দ্বীপে। ১৯৯০ সালের ১১ই ফেব্রুয়ারি এ আপোষহীন নেতা কারামুক্ত হন। ১৯৯৪ হতে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মাত্র পাঁচ বছর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। অথচ আমাদের এশিয়ার ক্ষমতাবান স্বৈরাচারী নেতাদের মতো চাইলে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কেননা তিনি ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম রাষ্ট্রপতি। একদা নাশকতার অভিযোগে যাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয়া হয়েছিলো, সেই মানুষটাই ১৯৯৩ সালে ভূষিত হলেন নোবেল শান্তি পুরস্কারে। শুধু তাই নয়, গত চার দশকে ২৫০টিরও অধিক পুরস্কার ম্যান্ডেলা পর্যন্ত পৌছানোর গৌরব অর্জন করেছে। ২০১৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর, অর্থাৎ আজকের তারিখে ৯৫ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করবার পূর্বে তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন যে এই পৃথিবীটা শুধু সাদা রঙা মানুষের নয়।
ইনভিক্টাস
আচ্ছা— একবার কল্পনা করুন তো, বর্ণবাদের প্রতিবাদ করায় একটা মানুষকে ২৭টি বছর কারাবন্দী থাকতে হলো, যার মধ্যে এক দ্বীপেই ছিলেন টানা ১৮ বছর! কি এমন অনুপ্রেরনায় এতটা দীর্ঘ বিভীষিকাময় সময় পার করলেন তিনি? যদি বলি যে ঐ দুঃসময়ে তার অন্যতম সঙ্গী ছিলো এক টুকরো ছেঁড়া কাগজ! তবে কি বিশ্বাস করবেন? প্রশ্ন জাগতেই পারে, কি এমন ছিল সেই কাগজে? ১৮৭৫ সালে ব্রিটিশ কবি উইলিয়াম আর্নেষ্ট হ্যানলে এর লেখা ইনভিক্টাস কবিতাটি লেখা ছিলো সেই ছেঁড়া কাগজে..; আ পোয়েম দ্যাট ইন্সপায়ার্ড দ্যা নেশন থ্রু আ প্রিজনার হু বিকেম দ্যা প্রেসিডেন্ট..!
কবিতাটির লাইনগুলি এতটাই তীব্র যে অভিভূত না হয়ে পারা যায়না। আর যদি পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভয়েজ আর্টিষ্ট স্বয়ং মর্গান ফ্রিম্যান আবৃত্তি করে শোনান, তবে? সে প্রসঙ্গে পরে আসছি। কবিতাটিতে এতটাই প্রভাবিত হয়েছি যে এর নিজের মাতৃভাষায় অনুবাদ করবার লোভ সামলাতে পারিনি। ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে পড়বার অনুরোধ রইলো—
প্রদোষকালের অস্পষ্টতা যা আমার অস্তিত্বকে আবৃত করে মেরু থেকে মেরু বর্ণহীন অতলস্পর্শ গহ্বরে কৃতজ্ঞতা জানাই সে যাহা-কিছুই হোক না কেন সৃষ্টিকর্তা অদম্য অহং সে তো আমারই আত্মা..



  • Left
  • Center
  • Right
Remove
Nelson Mandela / Invictus Poem Typography

পরিস্থিতির নিষ্ঠুর খোলসে সঙ্কুচিত হইনি কখনো কাঁদিনি সশব্দে ঝুঁকির নিদারূণ প্রহারে রক্তাক্ত তবু অদমিত মস্তকে..
ক্রোধ এবং অশ্রুজল থেকে বহুদূরে দুর্বোধ্যতার ভয়াবহ আলোছায়াতে এবং ভীত বছরগুলোতে সম্মুখীন হয়ে নির্ভীক চিত্তে..
নিমিত্ত নয় সঙ্কীর্ণ দুয়ারে অভিযুক্ত শাস্তির আলিঙ্গনে..
আমি মনিব আমার পরিণতির আমি কর্ণধার আমার আত্মার..

❝Invictus❞ শিরোনামে কবিতা থেকে চলচ্চিত্রে রপান্তরিত হয়ে সিনেমা থিয়েটারে মুক্তি পায় ২০০৯ সালের ১১ই ডিসেম্বর। জন কার্লিনের বিখ্যাত জীবনচরিত উপন্যাস “Playing the Enemy: Nelson Mandela and the Game that Made a Nation” অবলম্বনে ১৩৪ মিনিট দৈর্ঘ্যর চিত্রনাট্য লেখা হয়। চিত্রনাট্য লেখেন এন্থনি পেখ্যাম। উল্লেখ্য যে, সত্য ঘটনার উপরেই নির্মিত হয় বায়োগ্রাফি, ড্রামা, হিস্টোরি, স্পোর্টস্ জনরার এই মুভিটি। আইএমডিবি’তে যার রেটিং ৭.৪, মেটাক্রিটিকে স্কোরও ৭৪, রটেন টমাটোতে ফ্রেশনেস ৭৬%। পরিচালনা করেছেন, লিজেন্ডারি... ক্লিন্ট ইষ্টউড \m/
অর্থনৈতিক ও জাতিগতভাবে নিজেদেরই মধ্যে বিভক্ত দক্ষিন আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন নেলসন ম্যান্ডেলা ১৯৯৪ সালে। তখনো দক্ষিন আফ্রিকায় বর্ণবিদ্বেষ এতটাই প্রকোট ছিলো যে খেলাধুলাতেও এর মারাত্মক প্রভাব ছিলো। ম্যান্ডেলা খেয়াল করলেন যে, সেদেশের রাগবি ম্যাচে শ্বেতাঙ্গরা দক্ষিন আফ্রিকার এবং কৃঞ্চাঙ্গরা ইংল্যান্ডের সমর্থন করতো। ম্যান্ডেলা চাইলেন বিশ্বজনীন ভাষা ‘খেলাধুলা’ এর মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষ দূর করে, নিজ দেশকে অনুপ্রেরিত এবং একত্রিত করতে। ঠিক যেভাবে তিনি নিজে কারাবন্দী জীবনে অনুপ্রেরিত হয়েছিলেন। যতটা সহজে বর্ননা করলাম, ম্যান্ডেলার জন্য ততটাই কঠিন ছিলো কাজটি করে দেখানো..



  • Left
  • Center
  • Right
Remove
Morgan Freeman with Nelson Mandela

ম্যান্ডেলা চরিত্রে মর্গান ফ্রিম্যান এবং ফ্রান্সোয়া পিয়েনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ড্যামন। ম্যান্ডেলা নিজে বলেছিলেন যে সেল্যুলয়েডে কেউ যদি তাকে যাথাযথভাবে ধারণ করতে পারে তবে সে হচ্ছে একমাত্র মর্গান ফ্রিম্যান। তাই নেলসন ম্যান্ডেলার প্রতি সম্মান রেখে, মর্গান ফ্রিম্যানকেই সরাসরি মুভিটিতে কাষ্ট করা হয়। সিনেমায় মর্গানের ঐশ্বরিক কন্ঠে ইনফিক্টাসের আবৃত্তি এবং ভিজুয়ালাইজেশন কবিতাটিকে এক অন্য পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ২টি অস্কার নমিনেশনসহ বিভিন্ন পুরষ্কারে মোট ২১ নমিনেশন এবং ৮টি পুরস্কার লাভ করে মুভিটি। মর্গান ফ্রিম্যান সেরা অভিনতা এবং সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ম্যাট ড্যামন অস্কারে নমিনেশন পান।
অনুপ্রেরণা দরকার? সময় করে মুভিটি দেখতে বসুন। সিমপ্লি ওয়ান অফ দা বেষ্ট স্পোর্টস্ বেইজড্ মুভি আই হ্যাভ এভার সিন। অতিমাত্রায় দুর্দান্ত! মুভিটির ব্যাকরাউন্ড স্কোরের মতো নির্মাণশৈলীও বেশ ক্যাচি। মর্গান ফ্রিম্যান সম্পর্কে নতুন করে আর বলবার কিছু নেই, মুভিটিতে কথা বলার ধরন থেকে অঙ্গভঙ্গি সবকিছুতেই ম্যান্ডেলাকে চমৎকারভাবে ধারণ করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ম্যাট ড্যামনও সুপার্ব সাপোর্ট দিয়েছেন, এই মানুষটার কথা আলাদা করে না বললেই যেনো নয়; দেখলেই কেমন যেনো এক্সট্রাঅর্ডিনারি মনে হয়। ইট ফিলস্ লাইক হি নৌজ উই আর ব্যাড বাট স্টিল লাভস্ আস এনিওয়ে... দুনিয়াজুড়ে খুউব সুন্দর করে হাসতে জানা মানুষদের মধ্যে একজন এই ম্যাট ড্যামন। আরেকটি ব্যাপার, মুভিটি যিনি নির্মান করেছেন তার নাম ক্লিন্ট ইষ্টউড। যতটা না ভালো অভিনেতা, কিন্তু পরিচালক হিসেবে তার চেয়েও দুর্দান্ত! যদিও আমেরিকান স্নাইপারের মতো প্রপাগান্ডা উনার কাছে থেকে এক্সপেক্ট করিনি তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি উনার ভুল ধরবার যোগ্যতা আমার আদৌ হয়নি, কোনোদিন হবেও না মনে হয়..

Saturday, November 19, 2016

খুউব সম্ভবত একটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস সিলেকশন!

Jackie (2016)— ''A Psychodrama Of Hypnotic Intimacy'' . পলিটিক্স যদি কোনো মুদ্রা হয় তবে তার আরেক পিঠ হচ্ছে প্রপাগান্ডা। আর আমেরিকানরা সিনেমার মাধ্যমে সেই প্রপাগান্ডাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছে। প্রপাগান্ডা দিয়ে গেঁথেছে অসংখ্য FOOL এর মালা এবং সেগুলো বেশ ভালোভাবেই রপ্তানি হচ্ছে সারা বিশ্বময়। শোভা পাচ্ছে সিনেমা থিয়েটারে বা টরেন্টে। আমরা অনেকে সে মালা আনন্দের সাথেই গলায় দিই, কেউবা শুধু ঘ্রাণ নিয়েই রেখে দেয়। সে মালার নতুন এডিশন জ্যাকি। . জ্যাকলিন কেনেডি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি। সেদেশের ৩৫তম রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডি'র স্ত্রী। কন্ট্রোভার্শাল অ্যাসাসিনেশনে কেনেডি নিহত হবার পর তার স্ত্রী জ্যাকলিনের পরবর্তী জীবনের বায়োপিক জ্যাকি। .
নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ন্যাটালি পোর্টম্যান। ব্ল্যাক সোয়ানের দুর্দান্ত পার্ফরম্যান্সের পর থেকে যেনো তাকে আর খুঁজেই পাওয়া যায়নি, নিজ ক্যালিবার আর ক্যারিয়ার কোনোটার প্রতিই সুবিচার করেননি বলা যায়। জ্যাকির মাধ্যমে হয়তো তার প্রত্যাবর্তনের সেই ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্তত ট্রেলার দেখে তাই মনে হলো। মেইবি টু আর্লি টু কমেন্ট, বাট আগামী অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের নমিনেশন বাগিয়ে নেবার সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। অস্কারকে এখানে কিছুর একক ধরা হচ্ছেনা। যেহেতু তাদের মুভি দেখি তাই তাদের কাজ নিয়ে তাদের নিজেদের মূল্যায়নকে এড়িয়ে যেতে চাচ্ছিনা। প্রপাগান্ডায় আগ্রহ না থাকতে পারে তবে ন্যাটালি পোর্টম্যানে যে আগ্রহের বিন্দুমাত্র কমতি নেই। অন্যতম প্রিয় অভিনেত্রী বলে কথা! . থিয়েটারে মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২ ডিসেম্বর। ট্রেলার লিংক— https://youtu.be/g9pW3B8Ycc4


আদর্শ, মুখোশ কিংবা একটি চলচ্চিত্র!


এরিস্টটল বলেছিলেন, মানুষ নাকি একটি রাজনৈতিক প্রাণী। তাহলে একবার চিন্তা করুন তো সে প্রানীটি কতটুকু অসহায় হলে টয়লেট টিস্যুতে আত্মজীবনী লিখে যায়?

গাই ফকস্
সে প্রসঙ্গে পরে আসছি, তার আগে ১৬ শ' শতক থেকে কিছু জেনে আসতে হবে। তৎকালীন ইউরোপের ধর্ম এবং রাজনীতি পারস্পরিক সাংঘর্ষিক ছিলো। মূলত ইংল্যান্ড, স্পেন আর ফ্রান্স ছিলো খ্রিস্ট ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার প্রধান ধর্ম গুরু পোপ বিরোধী। তবে সমাজের উঁচুস্তরে রোমান ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট দুই জাতের রাজনীতিবিদেরই বিচরণ ছিলো। কিন্তু প্রোটেস্ট্যান্টরা রাণী এলিজাবেথের অনুগ্রহ পাওয়ায়, ক্যাথলিকরা হয়েছে বিতাড়িত। এমনই এক আভ্যন্তরীণ সঙ্কটের মধ্যে ইংল্যান্ডের ক্ষমতায় আসেন স্কটিশ রাজা জেমস্। পারিবারিকভাবে রক্তের সম্পর্ক থাকা ছাড়াও নিঃসন্তান রাণী এলিজাবেথের মনোনীত উত্তরাধিকারী ছিলেন তিনি। অতএব তৎকালীন পার্লামেন্টারি সিস্টেম রইলো প্রোটেস্ট্যান্ট নিয়ন্ত্রণাধীন। তাই ক্যাথলিকরা এটি নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট ছিলোনা।

গানপাউডার প্লট
ক্ষমতার পালাবদল হলো শুধু, ক্যাথলিকদের উপর অত্যাচার অপরিবর্তিতই রইলো। তাই এক প্রকার বাধ্য হয়েই, স্পেনের রাজার অধীনে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করা অভিজ্ঞ ক্যাথলিক গাই ফকস্ (Guy Fawkes) এর সহযোগীতায় রাজা জেমস এবং অন্যান্য সদস্যদেরসহ গানপাউডার বিস্ফোরণে তৎকালীন পার্লামেন্টারি সিস্টেম 'হাউজ অফ লর্ডস্' উড়িয়ে দেবার পরিকল্পনা করা হলো। পরিকল্পনাটি ছিলো মূলত রবার্ট ক্যাটসবি এর। ১৬০৪ সালে পরিকল্পনা করা হয়, ১৬০৫ সালের নভেম্বরের ৫ তারিখ এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। অতঃপর পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ফকস’কে বন্দী করা হলো। এবং ১৬০৬ সালের ৩১শে জানুয়ারি তাকে ঝুলিয়ে দেওয়া হলো ফাঁসিতে। এটিই ইতিহাস বিখ্যাত ৫ই নভেম্বরের গানপাউডার প্লট (Gunpowder Plot) নামে পরিচিত।

ইংল্যান্ডে বনফায়ার নাইট উৎযাপন
এজন্যেই বর্তমানে ইংল্যান্ডে প্রতিবছর ৫ই নভেম্বর বনফায়ার নাইট (Bonfire Night) উৎযাপন করা হয়। যার প্রচলন ঘটে ১৮ শ' শতক থেকে। সাধারনত ছোটো বাচ্চারা বছরের এই দিনে মুখোশ পড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হানা দিয়ে চকোলেট, টাকা-পয়সা সংগ্রহ করে। একই সাথে পুড়ানো হয় আতশবাজি।


ভি ফর ভেন্ডেটা কমিকের প্রচ্ছদ / গাই ফকসের এফিগি
সাধারণত কোনো মুখোশের অন্তরালে মূর্তিসদৃশ ব্যক্তিকে এফিগি (Effigy) বলা হয়। গাই ফকসের মুখায়বের আদলে এই এফিগির জন্ম হয় ১৯৮৮ সালে কমিক আঁকিয়ে ডেভিড লয়েড এবং কমিক লেখক অ্যালান মুর এর 'ভি ফর ভেন্ডেটা' (V for Vendetta) কমিকের মাধ্যমে। সেই কমিক বা গ্রাফিক নোভেল থেকে একই শিরোনামে ২০০৫ সালে চলচ্চিত্রে রুপান্তরিত হয় ভি ফর ভেন্ডেটা। যেখানে দেখানো হয় ২০২০ সালের শেষের দিকে ব্রিটেনে এক ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে। সেই সরকার আইন সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়ে ইচ্ছামতো স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে থাকে। ঠিক গাই ফকসের মতো করেই দুর্নীতিগ্রস্থ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট উড়িয়ে দেবার প্ল্যান করে সিনেমার প্রটাগনিস্ট ভি (V)।


সিনেমায় ব্রিটিশ হাইকোর্ট উড়িয়ে দেবার সময় ফায়ারওয়ার্ক্সে 'V' সাইনকে ইঙ্গিত করা একটি দৃশ্য
এখানে V for Vendetta দিয়ে শুধুই প্রাতিহিংসাকে ইঙ্গিত করা হয়নি, এখানে V একটি আদর্শের প্রতীক। রোমান ভাষায় V অর্থ ৫, যা ৫ই নভেম্বরের ইঙ্গিত দেয়। শুধু তা-ই নয়, সিনেমাটিতে V'কে যে কারাগার কক্ষে রাখা হয় তার নাম্বারও ছিলো পাঁচ। সিনেমার ক্লাইম্যাক্সে 'কেঁচিগেইটের' একটি দৃশ্য রেয়েছে যেখানে গেইটের ডিজাইনও V এর ইঙ্গিত বহন করে। এমনকি বিশেষ দৃশ্যে ব্যাকরাউন্ড স্কোরে ব্যবহার করা হয়েছে বিটোভেনের 'ফিফথ্' সিম্ফোনি। সিনেমার শুরুতে ব্রিটিশ হাইকোর্ট উড়িয়ে দেবার সময় যে ফায়ারওয়ার্ক্স দেখানো হয়, সেখানেও V দৃশ্যমান। সিনেমার ডায়লগেও V এর উপস্থিতি উল্লেখ্য; Vi Veri Veniversum Vivus Vici অর্থাৎ ''By the power of the truth, I, while living, have conquered the universe.''
ডমিনোতে টোকা দিয়ে দেখানো গুরুত্বপূর্ণ মেটাফোরিক দৃশ্য
সিনেমায় ডমিনো চিপসের একটি দুর্দান্ত মেটাফোর রয়েছে। যেটাতে ২২,০০০ ডমিনোজ ব্যবহার করা হয়েছে। ৪ জন প্রফেশনাল ডমিনো এসেম্বলার মিলে ২০০ ঘন্টা পরিশ্রম করে ডমিনোগুলো সাজিয়েছিলেন। যার সিনেম্যাটিক স্থায়িত্ত্ব ছিলো মাত্র ৩০ সেকেন্ড। ডমিনো চিপস দিয়ে ভঙ্গুর রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে। যখন একটা ডমিনোয় টোকা লাগে, পাশেরটিও তার ধাক্কায় পড়ে যায়; এটাই হচ্ছে বিপ্লব। এভাবে ২১,৯৯৯ ডমিনোজ পড়ে যায়, কিন্তু একটি ডমিনো ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। ঠিক V এর মতন। তবে এই দৃশ্যটির আরেকটি ব্যাখ্যা রয়েছে। সিনেমায় V চরিত্রটি সবকিছু পরিকল্পনা মতো করে, কিন্তু পার্লামেন্ট উড়িয়ে দেবার ব্যাপারটা জনগনের উপর ছেড়ে দেয়। “A domino beyond his control, and which he will not allow his plan to force, to topple in either way. He balances his plan, so as to leave that choice to the people.’’ এখানে শেষে দাঁড়ানো সেই ডমিনোটাই হচ্ছে জনগনের ইচ্ছে।

V চরিত্রে হুগো ওয়েভিং
সিনেমাটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হচ্ছে এর স্ক্রিপ্ট এবং ডায়লগ; যা আপনার ভোকাবুলারি এবং আদর্শে নতুন কিছু শব্দ যোগ করবে। প্রোটাগনিস্ট V এর চরিত্রে মাত্রাতিরিক্ত দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন হুগো ওয়েভিং; সাথে ছিলো তার ঐশ্বরিক কন্ঠ। পার্শ্ব চরিত্রে ন্যাটালি পোর্টম্যান ছিলেন অনবদ্য। সিনেমাটি দুর্দান্তভাবে নির্মান করেছেন জেমস্ ম্যাকটিগ। চিত্রনাট্য লিখেছেন ম্যাট্রিক্সের মাধ্যমে চলিচ্চিত্রে সায়েন্স ফিকশনের রেভুলশন ঘটানো ওয়াচস্কি ব্রাদার্স (বর্তমানে ওয়াচস্কি সিস্টার্স)। ৫৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার বাজেটে নির্মিত এ সিনেমাটি বক্স অফিসে আয় করেছে ১৩২ মিলিয়ন। ২৭টি নমিনেশনে পুরস্কার জিতেছে ৭টি। ৮ লাখেরও বেশি ভোটে IMDb'তে V for Vendetta এর রেটিং ৮.২ এবং সেরা ২৫০ সিনেমার তালিকায় অবস্থান ১৪৮ তম। রটেন টমাটোতে ফ্রেশনেস ৭৩%, মেটাক্রিটিকে স্কোর ৬২%। এবং আমার দেখা সেরা দশটি সিনেমার একটি। লেখাটি যে প্রসঙ্গে শুরু করেছিলাম, সে প্রসঙ্গ এসেছে এই সিনেমারই একটি দৃশ্যের মাধ্যমে। যার মর্মার্থ বুঝতে হলে আপনার সিনেমাটি দেখতে হবে। আর যারা ইতিমধ্যে দেখে ফেলেছেন তারা আসলেই রাজনৈতিক প্রাণী বটে। আর আমাদের মতো রাজনৈতিক প্রাণীদের জন্যেই তো ভি ফর ভেন্ডেটা একটি কাল্ট ক্লাসিক।

সিনেমার একটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য
'People shouldn't be afraid of their government. Governments should be afraid of their people.' এটি শুধুই রক্ত গরম করে দেয়া ডায়লগবাজি, ডিস্টোপিয়ান বা কল্পিত পলিটিকাল থ্রিলার নয়। গাই ফকসের আদলে V যেনো আমাদের ভেতরকার এক প্রতিবাদী সত্ত্বা। আর 'মোনালিসার মতোই ফকসের রহস্যময় হাস্যোজ্জল মুখের' মুখোশটি যেনো হয়ে উঠেছে বর্তমান অনলাইন/অফলাইন বিপ্লবের শেষ আশ্রয়। বিশ্ববিখ্যাত হ্যাকার গ্রুপ অ্যানোনিমাস (Anonymous) ছাড়াও অনেক অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট এই মুখোশটি ব্যবহার করে থাকেন। নিজ নিরাপত্তার ব্যাপারটি চিন্তা করলে এই মুখোশটি প্রতীকীভাবে বেশ কার্জকর।


Word to live by
মৃত্যুর ৪০০ বছর পরেও গাই ফকস হারিয়ে যায়নি কেনো জানেন? কারণ, একজন মানুষকে হত্য করা যায় কিন্তু তার আদর্শকে নয়। সিনেমার আরেকটি ডায়লগ, ''Beneath this mask there is more than flesh, Beneath this mask there is an idea, Mr. Creedy, and ideas are bulletproof.''

একটি দারুণ চলচ্চিত্র শুধু নিছক বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং বাস্তবতার অন্য এক জগত তৈরি করতে সক্ষম। আর সে জগতে বিচরণ করে নিত্যনতুন সব উপলব্ধির বিকাশ ঘটে নিজের মধ্যে। এখানেই একটি চলচ্চিত্রের সার্থকতা। এই সিনেমাটি চারশো বছরের আদর্শকে ধারণ করেছে। যা এই মনোলগে বিদ্যমান...
Remember, remember! The fifth of November, The Gunpowder treason and plot; I know of no reason Why the Gunpowder treason Should ever be forgot!

Penny Dreadful— “The Blessed Dark”

সিরিজটির একজন সংখ্যালঘু ভক্ত আমি। কারণ সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে ইহা একখানা বোরিং ক্রমিক। ঠিক কি কারণে এই বোরিং সিরিজটি আমার কাছে ইন্টারেস্টিং লেগেছে সেটা যতোটা সংক্ষেপে সম্ভব আইডেন্টিফাই করার চেষ্টা করি। গুগলি উগলি উকশ্ দিয়ে শুরু করি। মানে কিছু তথ্য যেগুলো আপনি গুগলেও পাবেন। পেনি ড্রেডফুল হচ্ছে উনিশ শতকের গপ্পের প্রকাশনা। হিস্টোরিয়ান জুডিথ ফ্ল্যান্ডার্সের মতে, এই বোরিং গপ্পোগুলো সময়ের সাথে ভিক্টোরিয়ান সিটিজেনদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলো। কিন্তু আমরা তো হিলারিয়ান পাবলিক, আমাদের কি আর এসব ভালো লাগবে? ঠিক এখান থেকেই দুটি ভিন্ন পথ ওগো দুই দিকে যাবে বেঁকে। একদিকে বোরিং আপনার, অন্যদিকে ইন্টারেস্টিং আমার। মাঝখানে মোরা দুই সিরিয়ালখোর...

.

লিট্রেচার, ফ্যান্টাসি, হরর, সাইকোলজিকার থ্রিলার, ভায়োলেন্স (ন্যুডিটি অলসো), ডার্ক মিস্ট্রি, সাসপেন্স, ডেমিমন্ড, ফিকশন এবাউট ফেইমাস ফিকশ্যনাল ক্যারেকটার/ফাউল ক্রিয়েচার্স/ভ্যাম্পায়ার্স/ইভিল স্পিরিট/ইম্মরটাল বিস্টস বা ব্ল্যাক ম্যাজিক, এক্সোরসিজম, প্ল্যান চ্যাট এসব সম্পর্কে আগ্রহ আছে কিনা? বা ইভা গ্রীণের প্রতি দূর্বলতা আছে কী? যদি না থেকে থাকে তবে এখানেই থেমে যান, কারণ এখান থেকেই বোরিং হাইওয়ে শুরু। পরে কমেন্টে হেমলকও ঢেলে দিতে পারেন। আর যদি এসবে আগ্রহ থাকে তবে ইন্টারেস্টের ম্যাপ আনলক হলো আপনার জন্য। এবার মিস্টেরিয়াস আইল্যান্ড ভ্রমনের পালা...

.

ধরা যাক, সিরিজটির রোমিও যদি হয় এর স্ক্রিনপ্লে তবে জুলিয়েট হচ্ছে সিনেম্যাটোগ্রাফী আর ট্রাজেডিতে আটকা চরিত্রগুলোর দুর্দান্ত অভিনয়। আর্ট ডিরেকশন যা শুধু এন্ড ক্রেডিটেই সীমাবদ্ধ নয়। ইমাজিনেশনে যে ফ্যান্টাসি আমরা তৈরি করি তারই ভিঞ্চি পোট্রেইট এই সিরিজটি, মেইবি মোর দ্যান দ্যাট। নতুনবা গেইম অফ থ্রোন্সের মতো পাওয়ারফুল সিরিজের এয়ারটাইমে পাল্লা দিয়ে হাজির হতে পারতো না পেনি ড্রেডফুল। ইহা এমনই এক আবহ তৈরি সক্ষম যেখানে গুগলি উগলি উকশ্ হওয়া ছাড়া উপায়ও থাকেনা। ইভা গ্রীণের এক প্ল্যান চ্যাটের দৃশ্যায়ণ নিয়েই বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বিশ নাম্বারের রচনা লেখা যাবে। সে যদি সিজনাল ফ্রুট হতো তবে এই সিরিজে তার পার্ফরমেন্স ছিলো একদম ইয়াম্মি কক্টেল জুসের মতোন। ডেভিলের প্রতি এট্রাক্টেড না হয়ে থাকা তো এমনিতেই বেশ কষ্টসাধ্য, তাঁর উপর দ্বিতীয় মৌসুমে অ্যান্টাগনিস্টের ডেভিল ওর্শিপের ডেডিকেশন দেখলে রীতিনীতির খ্যাতা পুড়ে দিয়ে ডার্ক ফোর্স জয়েন করবার ইচ্ছে জাগতেই পারে। ওয়্যারউল্ফ, নাইটকামার, ডক্টার ফ্যাংকেস্টাইন, মিস্টেরিয়াস ডোরিয়ান গ্রে, জ্যাকেল অ্যান্ড হাইড, ভ্যাম্পায়ার কি নেই এখানে। ডার্ক এলিমেন্টখোর হলে তো হ্যাঙ্গওভার হয়ে যাবার কথা...

.

পেনি ড্রেডফুল নিয়ে আমাদের মতো সংখ্যালঘু ভক্তদের এক্সপেরিয়েন্স লিখতে গেলে আরব্য রজনী পার হয়ে যেতে পারে। তাই মাত্র তিন সিজনে ২৭টি এপিসোডের মতো করেই তাড়াহুড়ো করে ইস্তেফা দেবার আগে, ফিনালে আফসোসের রুপকথা নাই বা লিখলাম। যেহেতু পজিটিভ মেন্টালিটি দিয়ে শুরু করেছি, নেগেটিভিটি দিয়ে শেষ করতে ইচ্ছে করছেনা। পেনি ড্রেডফুলের প্রতি এই কয়টা লাইন ডেডিকেট করে আপাতত বিদায় নিচ্ছি— Hello darkness, my old friend. I've come to talk with you again. Because a vision softly creeping, left its seeds while I was sleeping. And the vision that was planted in my brain, still remains within the sound of silence...




Friday, November 18, 2016

'Arrow vs The Flash'

জলপাই রানীর সবুজ তীর!
একটা আস্ত বিলিয়নিয়ার, এক কাপ কাস্ট আওয়ে, ছয় ভাগের এক ভাগ রবিনসন ক্রুসো, আধা চা চামচ রবিন উইলিয়ামস ফ্রম জুমানজি, ২৫০ গ্রাম মিহি কুচি ব্যাটমান, কয়েক কিউব রিভার্স ডেথস্ট্রোক, মাঝখান থেকে চেরা রবিনহুড পরিমান মত এবং এক মুঠো যা ইচ্ছে তাই। এই হলো উপকরণ।
প্রথমেই ধুয়ে রাখা বিলিয়নিয়ারকে ভালো করে মশলা মাখিয়ে মেরিনেট করতে হবে। এরপর ফ্রাই প্যান গরম করে তাতে কাস্ট আওয়ে ছেড়ে দিতে হবে, সাথে রবিন উইলিয়ামস ফ্রম জুমানজিকেও মিশিয়ে দিন। ফুটতে শুরু করলে ভালো মতন কষিয়ে বিলিয়নিয়ারকে সেদ্ধ করুন। ফ্লেভার উঠলে তাতে ডেথস্ট্রোক এবং রবিনহুড ঢেলে দিন। খেয়াল রাখবেন, বিলিয়নিয়ারের সাথে অপর উপকরণগুলো যেনো খুউব ভালোমতন মেখে যায়। তারপর যা ইচ্ছে তাই দিয়ে একটু নেড়েচেড়ে দুর্গন্ধ উঠলে বুঝবেন যে এটা তৈরি। অতঃপর মিহি কুচির ব্যাটমান ছিটিয়ে, তাকে ঘোমটা দিয়ে পরিবেশন করুন।
জনস্বার্থে- কেকা ফেরদৌসি
উল্লেখ্য- অলিভার কুইনকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো নর্থ চায়না সি তে, যার কোনো অস্তিত্বই নাই সিরিজ ক্রিয়েটরের ক্রিয়েটিভিটির মতন।



বাড়ি এলেন, দেখলেন, আর টাইমলাইন গুলায় দিলেন!
বাড়ি এলেন। তার উপরে ঠাডা পড়লো। হেরপর থেইকা সে নিজেই এক জীবন্ত ঠাডা। ফরেনসিক এক্সপার্ট হইলেও তার আছে অফুরন্ত সময় আর গোলা ভরা চেতনা। তাই আঞ্জুমান মফিদুলের আম্রিকান শাখা স্টার ল্যাবসের হয়ে টাইম ওয়েস্ট করেন তিনি। ওয়েস্ট দেখে মনে পড়লো, তার আছে আইরিস ওয়েস্ট। টিভি সিরিজ দুনিয়ার সবচাইতে বিরক্তিকর ক্যারেক্টার।
বাড়ির মাঝে বাংলা সিনেমার নায়ক হবার সকল দোষ বিদ্যমান। বাপ্পারাজের মতো ছ্যাকা খাওয়া, ইলিয়াসের মতো সিরিয়াস হয়ে যাওয়া, ওমর সানীর মতো ফ্যাত কইরা কাইন্দা দেয়া আবার জলিলের মতো কমেডি করে শুধু নিজেই তাতে হাসা। সে স্টার ল্যাবসে যেমনে কামলা দেয়, জাস্ট একটা শেলাই মেশিনওয়ালা শাবানা পাইলেই তার ভাগ্যের চাক্কা ঘুরে যাইতো। কষ্ট কইরা আর টাইমলাইন গুলান লাগতো না।
সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে আরেক দুনিয়ার লগে আমগো দুনিয়ার শেয়ারইট কানেক্ট করায় দিছিলো। কিন্তু তাতেও তার মন ভরে নাই। তার মা বাবাকে বাঁচাইতে আবারো টাইমলাইন গুলাইছে। এইটা টাইমলাইন নাকি বাগার দেয়া ডাইল যে বারবার ঘুটা দেয়া লাগে।
এতে কইরা প্রত্যেক সপ্তাহেই নতুন নতুন হালার্পুদের উৎপাত শুরু হয়। আর সে-ই একমাত্র ভাদাইম্মা যে কিনা তাদের থামাইতে পারে। পুরো সিজনে দুষ্টের দমণ করে ফিনালেতে গিয়ে নিজেই বিরাট এক আকাম বান্ধায়া দেয়। আর এভাবেই সে তিনটি মৌসুম কেঁদে হেসে খেলে কাটায় দিচ্ছে। সে হয় বাড়ি, সে হয় ঝলক। এই পোস্ট দেখে কেউ আবার আমারে কইরেন না বলক।

জোকারনামা


জোকার।
সর্বগ্রাসী একটি চরিত্র, যা সত্ত্বার সতীত্ব হনন করতে সক্ষম। ডিসি কমিকের এই সুপারভিলেনের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৫শে এপ্রিল। ব্যাটম্যানের ভয়ঙ্কর এই আতংকের জন্ম নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। বেশ কয়েকটি ব্যাকস্টোরি দেয়া হলেও জোকারের ডেফিনিট অরিজিন ডিসি কমিকেও ক্লিয়ার করা হয়নি। এ ব্যাপারে মহামতি জোকার নিজেই বলেন, "Sometimes I remember it one way, sometimes another... if I'm going to have a past, I prefer it to be multiple choice!"
দাবি করা হয়, জোকার চরিত্রটিকে সৃষ্টি করেছেন ৩ জন মিলে। বিল ফিংগার, বব কেইন, জেরি রবিনসন। বব আর জেরি ডিজাইন করেছেন; বিল লিখেছেন। তবে জোকারের জন্ম কিন্তু হয়েছে অন্য একটি চরিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে। ভিক্টর হুগো'র লেখা রোমান্টিক মেলোড্রামাটিক উপন্যাস অবলম্বনে তৈরি একই নামের সিনেমা 'দ্যা ম্যান হু লাফস্' (১৯২৮) এর কেন্দ্রীয় চরিত্র 'গুইনপ্লেইন' ভূমিকায় অভিনয় করা 'কনরাড ভেইদ্ট' এর আদলে জোকারকে আঁকা হয়। ১৯৫১ সালের ফেব্রুয়ারীতে, ডিসি কমিকের ডিটেকটিভ সিরিজের ১৬৮ সংখ্যায় দেখানো হয় যে জোকার একজন সাধারন ল্যাবরেটরি ওয়ার্কার। সে তার মালিকের কাছ থেকে মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করে রিটায়ার করতে চায়। তাই সে মুখোশ পরা সন্ত্রাসী সেজে 'রেড হুড' নামে ক্রাইম করতে গেলে ব্যাটম্যানের কাছে ধরা পড়ে। এবং ঘটোনাক্রমে কেমিকাল ওয়েস্ট এর ভিতর ডুবে গিয়ে সাদা চামড়া, লাল ঠোঁট, সবুজ চুলের হয়ে যায় এবং মুখবিকৃতি হয়ে বিদ্রূপহাস্যে পরিণত হয়। এই হচ্ছে এখন পর্যন্ত দেখানো জোকারের সর্বোচ্চ উৎপত্তি।
সেল্যুলয়েডে জোকারের পথচলা শুরু হয় ১৯৬৬ সালের ব্যাটম্যান মুভিতে সিজার রমেরো'র হাত ধরে। এরপর ১৯৮৯ সালের ব্যাটম্যান মুভিতে জোকার হাল ধরেন লিজেন্ড জ্যাক নিকলসন। অতঃপর ২০০৮ সালে ক্রিস্টোফার নোলানের দ্যা ডার্ক নাইটে জোকারের ভূমিকায় অভিনয় করে নিজেকে লিজেন্ডের পর্যায়ে নিয়ে যান হিথ লেজার। ২০১৬ তে এসে জোকারের প্রত্যাবর্তন ঘটান মেধাবী অভিনেতা জ্যারেড ল্যাটো। এছাড়া এনিমেইটেড সিরিজ এবং ভিডিও গেইমসে জোকারের চরিত্রে কন্ঠ দিয়েছেন মার্ক হ্যামিল।
বলা বাহুল্য, জ্যাক নিকেলসনের জোকার ছিলো একদম কমিক বুক থেকে উঠে আসা জোকার। কমিক বুক অনুযায়ী, বেষ্ট জোকার। আর হিথ লেজারের জোকার ছিলো ইম্প্রোভাইসড, এবং সে জোকার নিজেকে এক আলাদা পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সুইসাইড স্কোয়াডের জোকার ডিজাস্টার দেখার পর মনে হচ্ছে, কেউ আর হয়তো হিথ লেজারের জোকারের উচ্চতায় পৌছুতে পারবেনা। জ্যাক নিকলসনের সাথে হিথ লেজারের তুলনা করাটা হচ্ছে বোকামী। তুলনা করতে হলে পুরো ফিল্মোগ্রাফী টানতে হবে। যেখানে হিথের ক্যারিয়ার শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। তবে এখানে মজার ব্যাপার হচ্ছে, নিকলসন যখন জোকারের চরিত্রে রুপদান করেন তখন তার ক্যারিয়ার অলরেডি লিজেন্ডারি আর হিথ লেজার জোকার চরিত্রে অভিনয় করে নিজেকে লিজেন্ডারি বানিয়েছেন। জোকারের জন্য লিটারেলি প্রাণ দিয়ে গিয়েছেন এই অভিনেতা। মাসের পর মাস একা একটি মোটেলে থাকা, নিজেকে চরিত্রের সাথে একদম মিশিয়ে ফেলা, মেথড এক্টিং এর একদম রফাদফা করে দেয়া। জোকারের মেকআপ নিজে করা, ক্লোজ শটগুলা নিজে নেয়া, বলতে গেলে জোকার চরিত্রটা নোলানের কাছ থেকে ছিনতাই করে নিজের মতো পরিচালনা করেছেন। তার ফলাফলস্বরূপ, ২০০৮ সাল থেকে জোকার এর অর্থই বদলে দেন তিনি। এটা যে সর্বগ্রাসী চরিত্র সেটা নিয়ে আগেই তাকে সাবধান করেছিলেন সিনিয়র নিকলসন। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি, দ্যা ডার্ক নাইটের এডিটিং চলাকালে প্রেস্ক্রাইবড ড্রাগ ইন্টক্সিকেশনের কারণে কার্ডিয়াক এরেষ্টে মারা যান। এখানে আবারো বলা বাহুল্য, সেল্যুলয়েডের ইতিহাসে হিথ লেজারই প্রথম অভিনেতা যিনি কোনো কমিকবুক চরিত্রে অভিনয় করে অস্কার জয়লাভ করেন। তবে আফসোস, এই পাহাড়সম জনপ্রিয়তা দেখে যেতে পারেননি। হিথ লেজার আর জ্যারেড ল্যাটো নিয়ে কথা বলতে গেলে একটা ব্যাপারে বলতেই হয়। হিথ জোকার হয়ে অস্কার জিতেছে, আর ল্যাটো অস্কার জিতে এসে তবে জোকার হয়েছে। হ্যাঁ, অস্কারকে এখানে কিছুর একক ধরা হচ্ছেনা। যেহেতু তাদের মুভি দেখি তাই তাদের কাজ নিয়ে তাদের নিজেদের মূল্যায়নকে উপেক্ষা করার উপায় নেই। তবে জ্যারেড ল্যাটো জোকারের প্রতি একদমই সুবিধে করতে পারেননি, তাকে স্রেফ পাড়ার সেই পাতি মাস্তানের মতো লেগেছে যে কিনা ফ্যাশন ডিজাষ্টার হয়ে মেয়েদের পিছনে ঘুরতেই বেশি পছন্দ করে। যদিও তার চরিত্রটি ক্যামিও ছিলো, সেক্ষেত্রে স্যার এন্থনি হপকিস্নের রেফারেন্স দিতে হয়। ১৯৯১ সালে সাইলেন্স অফ দ্যা ল্যাম্বস্ মুভিতে হানিবল লেক্টারের ভূমিকায় পর্দায় অল্প কিছুক্ষণের উপস্থিতি এতটাই প্রভাব ফেলেছিলো যে অস্কার তো জিতেছিলেনই, সাথে চরিত্রটিকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে ছেড়েছিলেন। সুতরাং বাজে স্ক্রিপ্ট বা এডিটিং যাই হোক না কেন, জনাব জ্যারেড ল্যাটো আপতত ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে জোকার হয়েই রইবেন, অন্তত আমার কাছে।
সোজা বাংলায় জোকার আসলে মানসিক বিকারগ্রস্থ। তবে ছোটবেলায় ব্যাটম্যানকে ভালো লাগলেও, বড় হবার সাথে সাথে এই বিকারগ্রস্থের কথাবার্তাই বেশি সেন্স মেইক করতে লাগলো। হয়তো ইটস্ নট এবাউট মানি, ইটস্ এবাউট সেন্ডিং আ ম্যাসেজ। আর তার ম্যাসেজগুলোয় ইনফ্লুয়েন্সড হয়ে নিজের অজান্তেই কিভাবে যেনো জোকারভক্ত হয়ে গেলাম। ইভেন দ্যা ডার্ক নাইটেও চাচ্ছিলাম ব্যাটম্যান হেরে যাক। একটা সময় ছিলো, যখন আমার আইডিতে আমার চাইতে জোকারের ছবি বেশি ছিলো। এমনকি প্রোফাইল পিকচারেও জোকার ঝুলতো বেশিরভাগ সময়। আইডি পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জোকারের প্রতি আসক্তি এখনো বিন্দুমাত্র কমেনি। ২০০৪ সাল থেকে নিয়মিত মুভি দেখি, শুধু দেখি বললে ভুল হবে মুভি খাই আমি। সাইকোপ্যাথ, গ্যাংস্টার, ক্লাউন প্রিন্স বা এইজেন্ট অফ ক্যাওয়াস... যা-ই হোক না কেনো এই এক যুগে জোকার চরিত্রটার মতো করে কেউ কখনো প্রভাব ফেলতে পারেনি, কখনো পারবেওনা বোধ হয়। উইথ ডিউ রিস্পেক্ট টু জ্যাক নিকলসন'স জোকার... সরি- জ্যারেড ল্যাটো ইজ নট মাই জোকার, হিথ লেজার ইজ অ্যান্ড অলওয়েজ উইল বি! :)